ফুলতলী: এখানে মানুষ থাকে, অধিকার থাকে নাফুলতলীতে মানুষ বাস করে।

January 2, 2026

ফুলতলী: এখানে মানুষ থাকে, অধিকার থাকে না
ফুলতলীতে মানুষ বাস করে।
ঘর আছে, মসজিদ আছে, মাদ্রাসা আছে, বাজার আছে।
কিন্তু একটা জিনিসের বড় অভাব—মানুষের অধিকার।
এখানে মানুষ কথা বলে খুব আস্তে।
কারণ জোরে কথা বললে সমস্যা হয়।
প্রশ্ন করলে সমস্যা হয়।
বিশেষ করে “কেন?” বললেই সমস্যা।
এখানে আইন আছে—কিন্তু সবাই জানে, কোন আইন কার্যকর আর কোনটা কেবল বইয়ে।
এখানে রাষ্ট্র আছে—কিন্তু অনেক সময় মনে হয়, রাষ্ট্র দূরে কোথাও থাকে, ফুলতলীতে নয়।
ফুলতলীতে কিছু অদ্ভুত নিয়ম চালু আছে, যেগুলো কোনো সংবিধানে লেখা নেই, কিন্তু সবাই মানে।
কে কী পরবে,
কে কী বলবে,
নারী কী করবে আর কী করবে না—
সব ঠিক করে দেওয়া আছে আগেই।
এখানে নারীর অধিকার কোনো “অধিকার” না—এটা বিতর্ক।
এখানে শিক্ষা সবার জন্য না—শর্তসাপেক্ষ।
এখানে মতপ্রকাশ স্বাধীন না—ঝুঁকিপূর্ণ।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো—এখানে অত্যাচার চিৎকার করে আসে না, আসে নীরবে।
হুমকি আসে ফিসফিস করে।
চাপ আসে “ভালো পরামর্শ” হয়ে।
আর ভয়টা ধীরে ধীরে মানুষের ভেতর ঢুকে যায়।
ফুলতলীতে কেউ কাউকে সরাসরি বলে না—“চুপ থাকো।”
বরং পরিস্থিতিই শেখায়—চুপ থাকাই নিরাপদ।
এই নিরাপত্তাই সবচেয়ে বড় সমস্যা।
কারণ যেখানে মানুষ নিরাপদ থাকার জন্য অধিকার ছাড়ে,
সেখানে মানবাধিকার আগেই হেরে যায়।
মানবাধিকার মানে বড় কথা বলা নয়।
মানবাধিকার মানে—
ভয় ছাড়াই বাঁচা,
ভিন্ন হওয়া,
প্রশ্ন করা।
ফুলতলীতে এই সাধারণ বিষয়গুলোই এখন অস্বাভাবিক।
তাই প্রশ্নটা আবার করতে হয়—
ফুলতলীতে কি মানবাধিকার আছে?
উত্তরটা সম্ভবত এই—
মানবাধিকার এখানে নিষিদ্ধ নয়,
কিন্তু ব্যবহার করলে মূল্য দিতে হয়।
আর যে সমাজে অধিকার ব্যবহার করাই সাহসের কাজ,
সেই সমাজে মানবাধিকার কেবল শব্দ হয়—বাস্তবতা নয়।