নাস্তিক লেখক পারভেজ হক সমকামী,তৃতীয় লিঙ্গ ও পতিতাদের জীবন ও বাস্তবতা নিয়ে বই প্রকাশ করেছেন—এই কারণেই তথাকথিত “তৌহিদী জনতা”প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। এই ঘটনা শুধু একজন লেখকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ নয়, এটি সরাসরি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা,সাহিত্যচর্চা এবং প্রান্তিক মানুষের অস্তিত্বের বিরুদ্ধে আক্রমণ।
প্রশ্ন হলো—
একটি বই প্রকাশ করা কি এখন অপরাধ?
কোনো লেখক যদি সমাজের অবহেলিত মানুষদের কথা লেখেন, তাহলে কি তাকে শাস্তি পেতে হবে?
সমকামী, তৃতীয় লিঙ্গ ও পতিতারা কি এই সমাজের বাইরের কেউ?
তারা কি এই দেশের নাগরিক নয়?
তাদের জীবন, যন্ত্রণা, সংগ্রাম কি লেখার যোগ্য বিষয় নয়?
যারা এই বই প্রকাশের বিরুদ্ধে সমাবেশ করছে, তারা আসলে কী চায়—
সাহিত্যকে নিয়ন্ত্রণ করতে?
না কি সমাজ থেকে কিছু মানুষকে মুছে ফেলতে?
আজ প্রতিবাদ হচ্ছে বইয়ের বিরুদ্ধে।
আগামীকাল হবে লেখকের বিরুদ্ধে।
তারপর হবে পাঠকের বিরুদ্ধে।
এই পথ আমরা আগেও দেখেছি। এই পথ ভয়ংকর।
ধর্মের নামে এই ধরনের প্রতিবাদ সমাবেশ মূলত একটি বার্তা দেয়—
কিছু বিষয় নিয়ে লেখা যাবে না,
কিছু মানুষ নিয়ে কথা বলা যাবে না,
কিছু সত্য প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।
কিন্তু সাহিত্য কোনো ফতোয়ার অধীন নয়।
বই কোনো ওয়াজ মাহফিলের অনুমতির অপেক্ষায় থাকে না।
একজন লেখকের কাজ হলো প্রশ্ন তোলা, অস্বস্তিকর সত্য বলা, সমাজের অন্ধকার জায়গাগুলো আলোর মুখে আনা। সমকামী, তৃতীয় লিঙ্গ ও পতিতাদের নিয়ে লেখা মানে অশ্লীলতা নয়, ধর্ম অবমাননা নয়—এটা বাস্তবতার স্বীকৃতি।
যারা প্রতিবাদ করছে, তারা একবারও কি এই মানুষগুলোর জীবন দেখেছে?
তাদের নিরাপত্তাহীনতা, অপমান, সহিংসতা, রাষ্ট্রীয় অবহেলা দেখেছে?
নাকি শুধু পরিচয় দেখেই রায় দিয়ে দিচ্ছে?
একটি সভ্য সমাজে বইয়ের জবাব বই দিয়ে দেওয়া হয়।
লেখার জবাব লেখা দিয়ে দেওয়া হয়।
সমাবেশ, হুমকি আর ঘৃণার ভাষা দিয়ে নয়।
একজন ব্লগার হিসেবে আমি স্পষ্টভাবে এই প্রতিবাদ সমাবেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছি। কারণ আজ যদি একজন লেখকের বই প্রকাশের জন্য তাকে টার্গেট করা হয়, তাহলে কাল এই টার্গেট হতে পারে যে কেউ—আমি, আপনি, বা যে কেউ প্রশ্ন করতে সাহস করবে।
এটা শুধু পারভেজ হকের ব্যাপার নয়।
এটা আমাদের সবার কথা বলার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন।
এই দেশ কি বইয়ের দেশ থাকবে,
নাকি ভয় আর নিষেধাজ্ঞার দেশ হয়ে যাবে—
এই প্রশ্নের উত্তর এখনই দেওয়া জরুরি।