ফুলতলী: যেখানে মানবাধিকার অপরাধ, আর নীরবতাই নিরাপত্তা
ফুলতলীতে আজ মানবাধিকার আছে কি না—এই প্রশ্নটা আসলে ভুল। সঠিক প্রশ্ন হলো:
ফুলতলীতে মানবাধিকার চাইলে আপনি কতটা ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত?
কারণ এখানে মানবাধিকার আর স্বাভাবিক কোনো অধিকার নয়—এটা হয়ে উঠেছে সন্দেহজনক কাজ, বিপজ্জনক দাবি, এমনকি অনেক সময় “অপরাধ”।
ফুলতলীতে আপনি মানুষ হয়ে জন্মালেও মানুষ হিসেবে বাঁচার অধিকার নিশ্চিত নয়।
আপনি প্রশ্ন করতে চাইলে সমস্যা।
নারী হলে আরও সমস্যা।
ভিন্নমত হলে সবচেয়ে বড় সমস্যা।
এখানে ধর্মের নামে কিছু লোক নিজেদের আইন, বিচারক এবং শাসক মনে করে। রাষ্ট্রের আইন কাগজে আছে, কিন্তু বাস্তবে চলে অলিখিত ফরমান। কে কী পড়বে, কে কী বলবে, কে কোথায় যাবে—সবকিছুর ওপর নজরদারি। এই অবস্থা কি কোনো সভ্য সমাজের লক্ষণ?
মানবাধিকার মানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা।
কিন্তু ফুলতলীতে মতপ্রকাশ মানে ঝামেলা ডেকে আনা।
মানবাধিকার মানে নারীর শিক্ষা ও স্বাধীনতা।
কিন্তু এখানে নারীর স্বাধীনতা “ফিতনা” বলে চিহ্নিত হয়।
মানবাধিকার মানে ভিন্নমত সহ্য করার ক্ষমতা।
কিন্তু এখানে ভিন্নমত মানে সমাজচ্যুতি, হুমকি, ভয়।
সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো—এই অন্যায়গুলোকে অনেকেই এখন “স্বাভাবিক” বলে মেনে নিচ্ছে। কেউ বলে, “এভাবেই তো চলে আসছে।” কেউ বলে, “চুপ থাকাই ভালো।” কিন্তু ইতিহাস বলে—চুপ থাকাই সবচেয়ে বড় অপরাধ, কারণ নীরবতাই জুলুমকে শক্তিশালী করে।
যেখানে মানুষ কথা বলার আগে দশবার ভাবে, সেখানে মানবাধিকার মৃত।
যেখানে প্রশ্ন করার সাহস নেই, সেখানে স্বাধীনতা নেই।
যেখানে ভয় দিয়ে ধর্ম চালানো হয়, সেখানে ন্যায়বিচার থাকতে পারে না।
ফুলতলীতে আজ মানবাধিকার টিকে আছে কি না—তার উত্তর কোনো রিপোর্টে নেই, কোনো ভাষণে নেই। উত্তরটা আছে বাস্তবে:
মানুষ কতটা ভয়ে আছে,
নারী কতটা বন্দি,
আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে কতজন সাহস পায়—সেখানেই আসল উত্তর।
মানবাধিকার ভিক্ষা নয়। এটা কেড়ে নেওয়ার জিনিসও না।
যদি ফুলতলীতে আজ মানুষ তার অধিকার দাবি না করে, তাহলে আগামীকাল সেখানে শুধু আদেশ থাকবে—মানুষ থাকবে না।
ফুলতলী এখন একটি জায়গা নয়, এটি একটি সতর্কবার্তা।
আজ ফুলতলী—আগামীকাল যে কোনো জায়গা।