ফুলতলীতে কি মানবাধিকার এখনো আছে?

April 16, 2026

ফুলতলীতে কি মানবাধিকার এখনো আছে?
এই প্রশ্নটা আজ আর কোনো দর্শনচর্চার বিষয় নয়—এটা একেবারে বাস্তব, নির্মম ও জরুরি প্রশ্ন। কারণ ফুলতলীর মাটিতে দাঁড়িয়ে যদি একজন মানুষ আজ নিজের মৌলিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কিংবা নিরাপদে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা না পায়, তাহলে “মানবাধিকার” শব্দটা কেবল বইয়ের পাতায়ই সীমাবদ্ধ থাকে।
মানবাধিকার মানে শুধু আন্তর্জাতিক দিবসে পোস্ট দেওয়া নয়। মানবাধিকার মানে—
একজন মানুষ তার মত বলতে পারবে,
ভিন্নমত রাখলেও নিরাপদ থাকবে,
নারী শিক্ষা পাবে,
শিশু ভয় ছাড়া বড় হবে,
আর ধর্ম বা ক্ষমতার নামে কেউ কারও ওপর জুলুম চালাতে পারবে না।
কিন্তু বাস্তবতা কী বলছে?
ফুলতলীতে বারবার দেখা যাচ্ছে—ধর্মের নামে ভয় দেখানো হয়, সামাজিকভাবে বয়কট করা হয়, শিক্ষা ও চিন্তার ওপর অলিখিত নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়। নারীদের জন্য আলাদা নিয়ম, প্রশ্ন করলে “ধর্মবিরোধী” তকমা, আর প্রতিবাদ করলে হুমকি। এই চিত্র কি মানবাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ?
যখন কোনো এলাকায় কিছু মানুষ নিজেদের ঈশ্বরের প্রতিনিধি মনে করে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়, তখন সেখানে রাষ্ট্রের আইন দুর্বল হয়ে পড়ে। আর যেখানে আইন দুর্বল হয়, সেখানেই মানবাধিকার সবচেয়ে আগে মারা যায়।
আরও ভয়ংকর বিষয় হলো—এই অন্যায়গুলো ধীরে ধীরে “স্বাভাবিক” হয়ে যাচ্ছে। মানুষ চুপ করে যাচ্ছে, কারণ কথা বললে ঝামেলা, নিরাপত্তাহীনতা, সামাজিক চাপ। কিন্তু চুপ থাকাও একধরনের পরাজয়। ইতিহাস সাক্ষী—নীরবতা সবসময় জালিমের পক্ষেই কাজ করে।
প্রশ্ন হলো—ফুলতলী কি এই পথেই হাঁটবে?
নাকি মানুষ আবার প্রশ্ন তুলবে, যুক্তি দিয়ে কথা বলবে, নিজের অধিকার নিজে দাবি করবে?
মানবাধিকার কোনো দয়া নয়, এটা জন্মগত অধিকার। ধর্ম, সংস্কৃতি বা ক্ষমতার অজুহাতে কেউ তা কেড়ে নিতে পারে না। যদি ফুলতলীতে সত্যিই মানবাধিকার বেঁচে থাকে, তাহলে সেখানে প্রশ্ন করার সাহস থাকতে হবে, ভিন্নমতকে জায়গা দিতে হবে, আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর নৈতিক শক্তি থাকতে হবে।
আজ এই প্রশ্ন না তুললে, আগামীকাল প্রশ্ন তোলার মানুষই আর থাকবে না।
ফুলতলীতে কি মানবাধিকার এখনো আছে?
উত্তরটা আমাদের কাজ, আমাদের নীরবতা বা প্রতিবাদ—সব মিলিয়েই ঠিক করবে।